শতবর্ষে (১৯২৫-২০২৫) কমিউনিস্ট পার্টি
২৬ ডিসেম্বর ২০২৫ এই উপমহাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি তথা কমিউনিস্ট আন্দোলনের শতবর্ষ (১৯২৫- ২০২৫)। এর আগে ১৯২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের উজবেকিস্তানের মূল শহর তাসখন্দে বৃটিশ উপনিবেশিক শাসনের অধীন পরাধীন ভারতবর্ষের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম আত্মপ্রকাশ ঘটে ভ্রুণ আকারে। কমিউনিস্ট পার্টির এই প্রাথমিক উদ্যোগ ৩য় কমিউনিস্ট আন্তর্জাতিক কর্তৃক স্বীকৃতি পায়। পরবর্তীকালে দেশের মাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে নব কলেবরে ১৯২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর কানপুর সম্মেলনের মাধ্যমে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি জন্ম লাভ করে। এ অঞ্চলে স্থান ও কালের এই ভিন্নতার কারণে কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা নিয়ে তাই নানা তর্ক-বিতর্ক রয়েছে। ফলে ১৯২০ এবং ১৯২৫-এই দুটি সালই কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রূপে পালিত হয়ে চলেছে।
সব দেশের কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য হলো শোষণ-বৈষম্য-নিপীড়ন-অন্যায়-অবিচারের পুঁজিবাদী সমাজ ব্যবস্থার ধ্বংস সাধন করা। একইসঙ্গে শোষণমূলক ব্যক্তিগত মালিকানা উচ্ছেদ করে সামাজিক মালিকানাভিত্তিক মুক্ত মানুষের মুক্ত মানবিক সমাজ তথা সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠা করাও কমিউনিস্ট পার্টির লক্ষ্য। আর এই লক্ষ্যে প্রতিটি দেশের কমিউনিস্ট পার্টি সেই দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামসহ জনগণের বিশেষত শ্রমজীবী-মেহনতি মানুষের নানামুখী লড়াই-সংগ্রামের গর্ভ থেকে জন্ম লাভ করে। তাই একটি দেশের কমিউনিস্ট পার্টির গড়ে ওঠার রয়েছে নিজস্ব জাতীয় বা দেশীয় প্রেক্ষাপট। ঠিক তেমনই প্রতিটি দেশের বিপ্লব বিশ্ব বিপ্লবের অংশ। ফলে দেশে দেশে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে ওঠার পেছনে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটটিকেও বিবেচনায় রাখতে হবে।
সুদীর্ঘকাল ধরে এ দেশের জনগণ শোষণ-নির্যাতন-অবিচারের বিরুদ্ধে নানাভাবে লড়াই করেছে। বৈচিত্র্যপূর্ণ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক আন্দোলন, এমনকি ধর্মীয় আন্দোলনের মাধ্যমেও এই সংগ্রামের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে ইতিহাসের বিভিন্ন কালপর্বে। মুঘল আমলে নির্মম সামন্তবাদী শোষণ-নিপীড়নের বিরুদ্ধে কৃষকসহ মেহনতি জনগণ বিদ্রোহ করে। ঔপনিবেশিক পরাধীন ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির খাজনা আদায়ের নিষ্ঠুরতা এবং এর ফলে সৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কারণে বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে নানা ধরনের বিদ্রোহ এবং সশস্ত্র কৃষক আন্দোলন। ব্রিটিশ শোষণ, লুণ্ঠন ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে লবণচাষি, তাঁতি, অরণ্যবাসী, কারিগর--শ্রমজীবী জনগণের এসব বিভিন্ন অংশের সংগ্রাম সংগঠিত হয়।
১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহ এবং ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ এবং এর প্রায় দু বছর পর শুরু হওয়া নীল বিদ্রোহ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। এরই সমান্তরালে রেলপথ, চা-বাগান, কয়লা খনি, চট ও বস্ত্র-কল ইত্যাদি শিল্প কলকারখানার মাধ্যমে গড়ে ওঠা উদীয়মান শ্রমিকশ্রেণির আন্দোলনও বিকশিত হতে থাকে। এ সময় দলিত সম্প্রদায়ও নানা অবিচারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। অন্যদিকে কৃষক-শ্রমিক-মেহনতি মানুষের এসব লড়াই-সংগ্রাম শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির উল্লেখযোগ্য অংশের মধ্যে প্রভাব ফেলে। এরই সমান্তরালে ইউরোপীয় রেনেসাঁসহ সারা দুনিয়ার গণতান্ত্রিক ও সাম্যবাদী আন্দোলনের প্রেরণা এ দেশেও সঞ্চারিত হয়। এটা ইতিহাসে বাংলার নবজাগরণ বলে পরিচিত। শিল্প-সাহিত্য-সংগীত, সাংবাদিকতা, লেখালেখি, প্রকাশনা, সামাজিক সংগঠন, সমাজ সংস্কার আন্দোলন ইত্যাদি নানা চিন্তা ও তৎপরতার মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আর এর শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি ছিলেন ইয়ংবেঙ্গল-এর ডিরোজিও, শিবনাথ শাস্ত্রী, রামতনু লাহিড়ী, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, দীনবন্ধু মিত্র, অক্ষয় কুমার দত্ত, কালিপ্রসন্ন সিংহ, স্বামী বিবেকানন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রাধানাথ শিকদার, রঙ্গলাল চট্টোপাধ্যায়, হেমচন্দ্র বন্দোপাধ্যায়, কাঙাল হরিনাথ, লালন ফকির, দ্বারকানাথ গাঙ্গুলী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রামসুন্দর ত্রিবেদী প্রমুখ।
নানা তৎপরতার পাশাপাশি স্বদেশী আন্দোলনের মাধ্যমে স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা তীব্র হয়ে ওঠে। জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের ফলশ্রুতিতে জাতীয় মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে উঠতে থাকে। ব্রিটিশ বিরোধী এই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের গর্ভ থেকে বিংশ শতাব্দীর সূচনালগ্নে সশস্ত্র বিপ্লবী ধারার (অনুশীলন ও যুগান্তর সমিতি) উদ্ভব হয়। সেই সঙ্গে বাংলাসহ সারা ভারতবর্ষে শ্রমিক আন্দোলন ও শ্রমিক সংগঠন বিস্তার লাভ করে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালে জার্মানি, যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, আফগানিস্তানসহ বিশ্বের নানা দেশে প্রবাসী সশস্ত্র ধারার বিপ্লবীরা সমাজতন্ত্রের প্রতি আকৃষ্ট হন। এঁদের অনেকের ওপরেই পরবর্তীকালে রুশ বিপ্লবের প্রভাব পড়ে। ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁরা উদ্যোগী ভূমিকা পালন করেন। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন ডা. ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, বীরেন্দ্র চট্টোপাথ্যায়, নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য (মানবেন্দ্রনাথ রায় বা এম এন রায়), মুহাম্মদ শরীফ খান, মুহাম্মদ আলী, অবনী মুখার্জী, রতন সিং, বাবা সন্তোষ সিং, মোহন সিং ভাখনা প্রমুখ। শুধু তাই নয়, সশস্ত্র ধারার প্রবাসী বিপ্লবীদের বার্লিন কমিটি রুশ বিপ্লবের দিনই অর্থাৎ ৭ নভেম্বর ভারতীয় বিপ্লবীদের পক্ষ থেকে এই বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়ে স্টকহোম থেকে পেত্রোগ্রাদে টেলিগ্রাম তারবার্তা পাঠায়। তারবার্তার মূল কথাটি ছিল: “...রুশ বিপ্লবের আদর্শের প্রতি একনিষ্ঠ সংহতি জানিয়েই আমরা ঘোষণা করছি যে, ভারত ও রাশিয়ার মুক্তি আন্দোলন পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মুক্তিসংগ্রামের জন্য যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ...।” এভাবে উপনিবেশবাদ, সাম্রাজ্যবাদ ও পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে শোষিত, নিপীড়িত মেহনতি জনগণের নানামুখী সংগ্রামের ধারা থেকে এ দেশের কমিউনিস্ট পার্টির উদ্ভব ঘটে।
১৯২০-এর দশকে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শোষণ-শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামরত জাতীয়তাবাদী বিপ্লবীদের ওপর চলে তীব্র দমন-পীড়ন। ক্ষতিগ্রস্ত, বিতাড়িত ও পলাতক বিপ্লবীদের রুশ ও জার্মানিসহ ইউরোপ, আমেরিকার বিভিন্ন দেশে দেশান্তরী হতে হয়। দেশীয় ও প্রবাসী ভারতীয় জাতীয়তাবাদী বিপ্লবী ও ব্রিটিশ বিরোধী খেলাফত আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের ওপর রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের প্রভাব পড়ে এবং এঁদের অধিকাংশই প্রবাসে মার্কসবাদ তথা কমিউনিস্ট মতাদর্শ গ্রহণ করেন।
১৯২০ সালের ১৭ অক্টোবর তৎকালীন রাশিয়ার উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দে মার্কসবাদে আকৃষ্ট ব্রিটিশ বিরোধী সংগ্রামে লিপ্ত ভারতের বিভিন্ন ধারার প্রবাসী বিপ্লবী কর্তৃক অবিভক্ত ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির গোড়াপত্তন ঘটে। এর প্রতিষ্ঠতা সদস্য ছিলেন--(১)নরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ভট্টাচার্য, যিনি মানবেন্দ্রনাথ রায় বা এম এন রায় বলেই পরিচিত (ভারতীয় গোপন সশস্ত্র বিপ্লবী দলের সদস্য), (২) এভেলিনা ট্রেন্ট (এম এন রায়ের আমেরিকান স্ত্রী), (৩) অবনী মুখার্জী (সশস্ত্রধারার গোপন সংগঠন অনুশীলন সমিতির সঙ্গে যুক্ত), (৪) মান্ডয়ন পার্থসারথি তিরুমল আচার্য বা এম প্রতিবাদী বায়াঙ্কার আচার্য (ইউরোপে প্রবাসী ভারতীয় বিপ্লবী), (৫) মুহম্মদ আলী সেপাসি (আত্মনির্বাসিত মোহাজির, পরে মস্কোতে গিয়ে কমিউনিস্ট), (৬) রোজা ফিটিংগফ, (৭) মুহাম্মদ শফিক সিদ্দিকী (সম্পাদক নির্বাচিত হন)।
অন্যদিকে ভারতের ভিতরে ক্রমবর্ধমান শ্রমিক আন্দোলনে রুশ সমাজতান্ত্রিক বিপ্লব প্রভাব ফেলে এবং ভারতীয় ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (অওঞটঈ) গড়ে ওঠে। এ ক্ষেত্রে ভারতীয় কমিউনিস্টরা অগ্রণী ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
১৯২০ থেকে ১৯২৪ এই সময়কালে গদর পার্টি (ভারতে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংগঠিত করার লক্ষ্যে গঠিত প্রবাসী ভারতীয় বিশেষত পাঞ্জাবের শিখ বিপ্লবীদের দল), মোহাজির দল (ভারতবর্ষের ব্রিটিশ শাসনকে কাফেরের রাজত্ব অভিহিত করে তার উচ্ছেদকামী পাঞ্জাব ও উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের মুসলমান যুবকদের দল), দেশের অভ্যন্তরস্থ বিপ্লবী ধারা (বাংলার মুজফ্ফর আহ্মদ, আবদুল হালিম, আব্দুর রেজ্জাক খাঁ, শামসুল হুদা; মহারাষ্ট্র-বোম্বাইয়ের (বর্তমানের মুম্বাই) এস এ ভাঙ্গে ও এস ভি ঘাটে, মাদ্রাজের (বর্তমানের চেন্নাই) সিঙ্গার ভেলু চেট্টিয়ার; লাহোরের অধ্যাপক গোলাম হোসেন) এবং ভারতের ক্রমবর্ধমান শ্রমিক আন্দোলনের ধারা--এসব ধারার মধ্য দিয়ে বিকশিত হওয়া কমিউনিস্ট নেতৃবৃন্দ তৎকালীন ভারতবর্ষের মাটিতে কমিউনিস্ট আন্দোলন ও কমিউনিস্ট পার্টি গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এরই ফলশ্রুতিতে বিভিন্ন কমিউনিস্ট গ্রুপের উদ্ভব ঘটে। এই কমিউনিস্ট গ্রুপগুলো কংগ্রেসের বিভিন্ন অধিবেশনে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনের অবসান ও পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে ইশতেহার বিলি করে।
১৯২১ সালে আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে মৌলানা হযরত মোহানী (১৯২৫ সালে কানপুরে তৎকালীন ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা সম্মেলনের অভ্যর্থনা কমিটির সভাপতি) ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসনের উচ্ছেদসহ ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি তুলে ধরেন। অধিবেশনে প্রতিনিধিদের উদ্দেশ্য করে কমিউনিস্টরা একটি ইশতেহার বিলি করেন। ওই ইশতেহার রচনা করেছিলেন এম এন রায়। এটাই ছিল কমিউনিস্টদের তরফ থেকে বিলি করা প্রথম ইশতেহার।
১৯২২ সাল অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের গয়া অধিবেশনে মাদ্রাজের (বর্তমানে চেন্নাই) কমিউনিস্ট নেতা সিঙ্গার ভেলু চেট্টিয়ার ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি পুনরায় উত্থাপন করলে, তা বিপুলভাবে সমর্থিত হয়। ১৯২৩ সালে পহেলা মে মাদ্রাজের (বর্তমান চেন্নাই) কমিউনিস্ট নেতা সিঙ্গার ভেলু চেট্টিয়ার তাঁর স্ত্রীর লাল শাড়ি ছিঁড়ে নিজের বাড়িতে লাল পতাকা উত্তোলন করে মহান মে দিবস পালন করেন। পরে মাদ্রাজের (বর্তমান চেন্নাই) সমুদ্রতটে হাজার হাজার শ্রমিকের উপস্থিতিতে ভারতে প্রথম মে দিবস উদযাপন করা হয়। ১৯২৩-২৯ সময়কালে অবিভক্ত ভারতের মাটিতে বিকাশমান কমিউনিস্ট আন্দোলনকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য, ব্রিটিশ শাসকরা ‘পেশোয়ার কমিউনিস্ট ষড়যন্ত্র মামলা’ (১৯২৩-২৪), ‘কানপুর বলশেভিক ষড়যন্ত্র মামলা’(১৯২৩), ‘মীরাট ষড়যন্ত্র মামলা’(১৯২৯) ইত্যাদি মিথ্যা মামলায় দেশের নানা প্রান্তের প্রখ্যাত কমিউনিস্ট নেতাদের কারাদণ্ড দেয়। এই মামলায় যাঁরা কারাবরণ করেন, তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মুজফ্ফর আহ্মদ, এস এ ডাঙ্গে, শওকত ওসমান, নলিনী গুপ্ত, ধরণী গোস্বামী, শামসুল হুদা, গোপেন চক্রবর্তী, গোপাল বসাক প্রমুখ। কমিউনিস্টদের ওপর দমন-পীড়ন, জেল-জুলুম অব্যাহতভাবে চলতে থাকে। ১৯২৫ সালে বিভিন্ন অঞ্চলে তৎপর দেশের সব কমিউনিস্ট গ্রুপকে ঐক্যবদ্ধ করে কানপুর সম্মেলনে ২৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এই সম্মেলন আহ্বান করেন সত্য ভক্ত এবং সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সিঙ্গার ভেলু চেট্টিয়ার। সম্মেলনে পার্টির গঠনতন্ত্র গৃহীত হয় এবং কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়। পার্টির এবং যুগ্মসম্পাদক হন এস ভি ঘাটে ও জিপি বাগরহাট্টা।
তবে স্বাধীনতা অর্জন ও দেশভাগের মাধ্যমে অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির ভৌগলিক খণ্ডিভবন ঘটে ভারত ও পাকিস্তান-এই দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভবের মাধ্যমে। ভারতে পার্টি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি রূপে আলাদাভাবে বিকশিত হয়। আদি পার্টির পাকিস্তান অংশ পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টিতে রূপান্তরিত হয়। ১৯৪৮ সালের ৬ মার্চ পার্টির পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটিই পূর্ব পাকিস্তানের কমিউনিস্ট পার্টি হিসেবে স্বতন্ত্রভাবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৬৬ সালে পার্টি ‘মস্কোপন্থী’ ও ‘পিকিংপন্থী’ বলে পরিচিত দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে পরে। মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন দেশের পরিচয়ে পার্টির নামকরণ হয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সংক্ষেপে সিপিবি (ঈচই)। আমরা তাই অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির বিপ্লবী ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার। তবে পশ্চিম পকিস্তানে কমিউনিস্ট পার্টি শুরু থেকে নানা কারণে আর বিকশিত হয়ে উঠতে পারেনি।



মন্তব্য নেই
Philip W
প্রকাশিত ০৭ অক্টোবর ২০১৮ প্রতিমন্তব্যPhasellus hendrerit. Pellentesque aliquet nibh nec urna. In nisi neque, aliquet vel, dapibus id, mattis vel, nisi. Sed pretium, ligula sollicitudin laoreet viverra, tortor libero sodales leo, eget blandit nunc tortor eu nibh. Nullam mollis. Ut justo. Suspendisse potenti.
Philip W
প্রকাশিত ০৭ অক্টোবর ২০১৮ প্রতিমন্তব্যPhasellus hendrerit. Pellentesque aliquet nibh nec urna. In nisi neque, aliquet vel, dapibus id, mattis vel, nisi. Sed pretium, ligula sollicitudin laoreet viverra, tortor libero sodales leo, eget blandit nunc tortor eu nibh. Nullam mollis. Ut justo. Suspendisse potenti.